সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

মিমাংশা করতে ৫ ঘন্টা ধরে বৈঠক: পাল্টা সংবাদ সম্মেলন স্থগিত

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জাতির জনক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও মঞ্চ ভাংচুরের ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই ঘটনায় ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ছাত্রলীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। পুরো ঘটনাটি মিমাংশা করতে ৬ ইউ-পি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় ৫ ঘটনা ব্যাপী ছাত্রলীগের সাথে চেয়ারম্যানদের বৈঠক হলেও কোন সমাধান হয়নি। বুধবার (২৮ মার্চ) ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলনের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ডেকে ৫ ঘন্টা সাংবাদিকদের বসিয়ে রেখে পরে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনার ১২ দিনেও পুলিশ তদন্তের অজুহাতে জড়িতদের গ্রেফতার না কারায় ছাত্রলীগের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্যম কাদমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছবি ও মঞ্চ ভাংচুর করা হয়। ওই বিদ্যালয়ের ব্যাবস্থপনা কমিটির সভাপতি জিহাত হোসেন বাবু এ ভাংচুরের ঘটনায় শিবিরকে দায়ী করেন। পরে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনের মধ্যস্থতায় ১৮ মার্চ রাতে স্থানীয় ভাবে তা মিমাংশা হয়। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ ১৯ মার্চ দৈনিক মানব কন্ঠসহ বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রলীগের নির্দেশে স্থানীয় ছাত্রলীগ সড়ে জমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে হাতীবান্ধা থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এ ঘটনায় গত ২৫ মার্চ হাতীবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা ছাত্রলীগ। সংবাদ সম্মেলনে হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম শাহরিয়ার জিহান অভিযোগ করেন, ৪ লক্ষ টাকার বিনিময় ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের ঘটনাটি মিমাংশা করেছেন। বুধবার দুপুর ১২ টায় ওই ঘটনায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন। পরে কয়েকজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ২য় তলায় বৈঠক বসে। ৫ ঘন্টা ব্যাপী ওই বৈঠক বিকাল ৪ টায় শেষ হলেও কোনো মিমাংশা হয়নি।
বৈঠক শেষে হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম শাহরিয়ার জিহান সাংবাদিকদের বলেন, মিমাংশা নয়, বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহযোগিতার জন্য চেয়ারম্যানদের সাথে বৈঠক করেছি। জীবনের শেষ রক্তের বিনিময় হলেও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর কারীদের সাথে কোনো আপোষ নয়।
তবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ডেকে ৫ ঘন্টা সাংবাদিকদের বসিয়ে রেখে বিকাল ৪ টায় তা স্থগিত করেন ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন। এ দিকে ঘটনার ১২ দিন অদিবাহিত হলেও কোনো আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন জানান, ওই দিন বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর আমি ৪ লক্ষ টাকার বিনিময় ঘটনা মিমাংশার প্রশ্নেই উঠে না। আমার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক বরকত হোসেন জানান, বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের ঘটনাটি আমি শুনেছি। ওই ঘটনায় ছাত্রলীগ থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। কোনো ভাবেই বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরকারীদের ছাড় দেয়া হবে না।
হাতীবান্ধা থানার ওসি উমর ফারুক জানান, আমি এ থানায় নতুন এসেছি। বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর সংক্রান্ত একটি অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com